বাংলার আলো
শিরোনাম

ফেলানীকে নিয়ে ডাকসুর খোলা চিঠি লিখন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

Admin Admin 4 views
ফেলানীকে নিয়ে ডাকসুর খোলা চিঠি লিখন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

গত শনিবার (২২ আগস্ট) ডাকসু সভাকক্ষে এক আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে নগদ প্রাইজমানি, সার্টিফিকেট এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

উক্ত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির, আফসানা আকতার, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের ভিপি আহসান হাবীব ইমরোজ, সুহাইল মাহদীন, ডাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীগণ।

এই প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানাধিকারীকে ৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থানাধিকারীকে ৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থানাধিকারীকে ২ হাজার টাকা নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি, মোট ১৩ জন বিজয়ী প্রতিযোগীকে সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। এছাড়া অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আসফাকউল্লাহ আসিফ।

সভায় বক্তাগণ বলেন, ফেলানী হলো সীমান্ত হত্যা বন্ধ, সার্বভৌমত্ব অর্জন ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ প্রতীক। তার স্মৃতিচিহ্ন হৃদয়ে ধারণ করে দেশের তরুণ সমাজকে যেকোনো ধরনের সীমান্ত হত্যা ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

সুফিয়া কামাল হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক সানজিদা আক্তার শ্রেয়সী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নিজের সময়েরই এক সাধারণ তরুণী হওয়া সত্ত্বেও ফেলানী আজ সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীকে রূপ নিয়েছে। তার আত্মত্যাগের ঘটনা দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সব ধরনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগায়। সেই সঙ্গে তিনি সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের ভিপি আহসান হাবীব ইমরোজ জানান, ফেলানীর আত্মত্যাগ হলো সার্বভৌমত্ব ও নায্য অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের অনন্য এক প্রতীক। তার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রেখে সীমান্ত হত্যা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে আওয়াজ তুলতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ফেলানী হলো ‘আমাদের হৃদয়ের কাঁটায় ঝুলে থাকা এক রক্তজবা’। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি মাত্র ১১ বছর বয়সী শিশু ফেলানীকে গুলি করে হত্যার পর তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার ওই পৈশাচিক ঘটনা নিছক কোনো হত্যাকাণ্ড নয়; বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের ওপর চেপে বসা আধিপত্য ও নির্যাতনের একটি নিষ্ঠুর নিদর্শন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও যোগ করেন, ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা, উভয় দেশের চুক্তি বাস্তবায়ন এবং অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দেশ আরও শক্ত অবস্থান নেবে এমনটাই সকলের প্রত্যাশা ছিল। অথচ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে আশানুরূপ শক্তিশালী কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। ফেলানীসহ প্রতিটি সীমান্ত হত্যার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার জোরালো দাবি জানান তিনি।

মুসাদ্দিক তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারতের রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে গোপনীয় তৎপরতা ও গণহত্যায় সম্পৃক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব খবরের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এ বিষয়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও জোরালো ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক ছিল।

তিনি বলেন, দেশের আপামর জনসাধারণ ও কৃষাণ-কৃষাণীরা নিজেদের অধিকার আদায়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ। তবে দুঃখের বিষয় হলো, শোষণমূলক কাঠামোগুলোর এখন পর্যন্ত কোনো মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হয়নি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান বলেন, দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রে ফেলানী একটি অভূতপূর্ব প্রতীক। ২০১১ সালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার সময় অনেকেই এর প্রকৃত গভীরতা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলেও, পরবর্তীতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার সম্পর্কে মানুষ যখন সচেতন হয়েছে তখন এই হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সেসময়ের সরকার ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে কোনো জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে আসা বিভিন্ন সরকারের কাছেও যে ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগের প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ফেলানীর আত্মত্যাগের কথা যেন হারিয়ে না যায় এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের ধারায় তার স্মৃতিকে চিরজাগরূক রাখা যায়, মূলত সেই লক্ষ্যেই ডাকসু এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।