চবিতে পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের তিন হাজার বৃক্ষরোপণ
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পাহাড় ও ফাঁকা জায়গায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়, যার মাধ্যমে পাহাড়ি ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ ও সমৃদ্ধ করতে তিন হাজার বৃক্ষরোপণ এবং গাছের চারা বিতরণ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সারাদিনব্যাপী চলা এই প্রকৃতিবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব’। পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ক্লেমনের দেশজুড়ে চলমান ‘এক লক্ষ্যে এক লাখ বৃক্ষরোপণ’ ক্যাম্পেইনের আওতায় এই অনুষ্ঠানে গাছের চারা দেওয়া হয়। এই আয়োজনে সংগঠনটির ৫০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।
উদ্যোগটি সম্পর্কে চবি বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি নিয়াজ মখদুম জানান, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বসবাস উপযোগী পৃথিবী উপহার দেওয়া আমাদের কর্তব্য। শিক্ষার্থীদের মনে প্রকৃতির প্রতি অনুরাগ তৈরি করা ব্যতিরেকে এই পরিবর্তন আনা অসম্ভব। আমরা মূলত পরিবেশবাদী মানসিকতা ছড়িয়ে দিতেই শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করেছি।’
পূর্বের নানা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতে বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি রোধে প্রচুর তালগাছ রোপণ করেছি। পাশাপাশি, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে কোস্টাল ক্লিনআপ বা উপকূল পরিচ্ছন্নকরণ কর্মসূচিও চালিয়েছি। আমাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্য দিয়েই আমরা প্রতিনিয়ত প্রকৃতি সংরক্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আব্দুল্লাহর ভাষ্য, ‘বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব জনস্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা যদি এখনই সতর্ক না হই, তবে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। বিশেষ করে দেশের উপকূলীয় এলাকা ও দক্ষিণাঞ্চল সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, এই ক্ষয়ক্ষতি যতটুকু সম্ভব হ্রাস করা।’
তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃতি রক্ষার পাশাপাশি রক্তদান কর্মসূচি এবং থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করে যাচ্ছে তাদের সংগঠন। অনাগত দিনগুলোতে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।