বাংলার আলো
শিরোনাম

ফেসবুকে অরিজিনাল কনটেন্ট বলতে যা বোঝায়

প্ল্যাটফর্মটির নতুন নীতিমালায় শুধু নিয়মিত পোস্ট করার দিন শেষ হয়ে এখন সৃজনশীলতা ও নিজস্ব অবদানকেই প্রধান শর্ত করা হয়েছে।

Admin Admin 19 views
ফেসবুকে অরিজিনাল কনটেন্ট বলতে যা বোঝায়

সম্প্রতি ফেসবুকের পক্ষ থেকে মৌলিক কনটেন্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির নীতিমালা অনুযায়ী, একজন নির্মাতার নিজেদের বানানো কনটেন্টই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

নিজে কোনো ভিডিও রেকর্ড করলে তা মৌলিক কনটেন্ট হিসেবে গণ্য হতে পারে। একইভাবে নিজস্ব ভাবনা, চিত্রগ্রহণ, উপস্থাপনা ও নির্মাণশৈলীতে তৈরি ভিডিও মৌলিক কনটেন্টের পর্যায়ে পড়ে।

প্রধানত কোনো নির্মাতা স্বয়ং উপস্থিত হয়ে ভিডিও ধারণ করলে, নিজের ভয়েসে তথ্য উপস্থাপন করলে এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলে তাকে মৌলিক কনটেন্ট বলা চলে। এ ধরনের উপাদানে নির্মাতার নিজস্ব অংশগ্রহণ স্পষ্ট থাকায় তা অরিজিনাল হিসেবে গণ্য হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

অন্যের তৈরি করা কোনো ভিডিও বা অংশবিশেষ ব্যবহার করলেই তা মৌলিক হয়ে যায় না। তবে মূল ভিডিওর সঙ্গে যদি নির্মাতার নিজস্ব উপস্থিতি, বিশ্লেষণ, তথ্য বা ব্যাখ্যা সংযুক্ত থাকে, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো ঘটনার ভিডিওর সাহায্য নিয়ে কোনো নির্মাতা ক্যামেরার সামনে এসে সেটি বিশ্লেষণ করলে, নতুন কোনো তথ্য প্রদান করলে কিংবা নিজস্ব মতামত ও ব্যাখ্যা উপস্থাপন করলে তা নতুন মাত্রা পায়। এতে মূল ভিডিওর পাশাপাশি দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত মূল্য তৈরি হয়।

তবে কেবল অন্যের ভিডিও চালিয়ে নিজের মুখ দেখানোই যথেষ্ট নয়। কনটেন্টে অবশ্যই দর্শকদের জন্য নতুন তথ্য, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ কিংবা প্রেক্ষাপট যোগ করতে হবে।

শুধু কিছু পরিবর্তন করলেই মৌলিক হয় না

অন্যের ভিডিও নামিয়ে তাতে বর্ডার যুক্ত করা, ফ্রেমের গতি কমানো বা বাড়ানো, ক্যাপশন যুক্ত করা কিংবা সামান্য এডিট করে নিজেদের পেজে আপলোড করাকে মৌলিক কনটেন্ট বানানোর যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে মানা হয় না। এই ধরনের ক্ষেত্রে আসল কনটেন্টে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য সৃজনশীল ইনপুট যোগ হয় না। কেবল প্রযুক্তিগত রদবদল ঘটালেই কোনো কনটেন্ট মৌলিক হয়ে ওঠে না।

রিঅ্যাকশন ভিডিওতেও সতর্কতা

প্রতিক্রিয়া বা রিঅ্যাকশন ভিডিওর প্রচলন থাকলেও এ ধরনের ভিডিও বানানোর সময় কনটেন্ট নির্মাতাদের সচেতন থাকতে হবে। অন্যের ভিডিও চালিয়ে শুধু নির্বিঘ্নে বসে থাকা বা মামুলি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করাকে অরিজিনাল কনটেন্ট হিসেবে গ্রহণ নাও করা হতে পারে।

রিঅ্যাকশনধর্মী ভিডিওতে নির্মাতার নিজস্ব মতামত বা বক্তব্য থাকা আবশ্যক। সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি কেন তাৎপর্যপূর্ণ, এর ফলাফল কী এবং এই বিষয়ে নতুন কী তথ্য রয়েছে—এগুলো ফুটিয়ে তুললে কনটেন্টের মান বৃদ্ধি পায়।

ফেসবুকের এই গাইডলাইনের মূল লক্ষ্য হলো, অন্যের কনটেন্টে সামান্য কাটাছেঁড়া করে নিজেদের মালিকানায় প্রচার না করে বরং নিজের চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা খাটিয়ে অভিনব কিছু প্রস্তুত করা।

অতএব, ফেসবুক পেজ চালনাকারী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এখন কনটেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। অন্যের ভাইরাল ভিডিও পুনরায় আপলোড করার বদলে নিজেদের পরিকল্পনা ও সৃজনশীল ভাবনায় সমৃদ্ধ মানসম্মত কনটেন্টই বেশি গুরুত্ব লাভ করবে।