বাংলার আলো
শিরোনাম

বাকৃবিতে অনুষ্ঠিত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রতিযোগিতা বিল্ড উইথ এআই

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।

Admin Admin 12 views
বাকৃবিতে অনুষ্ঠিত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রতিযোগিতা বিল্ড উইথ এআই

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদ ইফতেখার ইউসুফের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ‘ডিজিটাল এন্ট্রোপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাকিব হাসান।

প্রতিযোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানসহ স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে দলগতভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা, শিক্ষণ এবং যৌথভাবে সমস্যা সমাধানই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সংক্ষিপ্ত এই প্রতিযোগিতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের প্রায় একশ জন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিত করা হয়। তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত বিশেষ সেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এই আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল ঢাকা পোস্ট।

জেমিনাই ও ইলেভেন ল্যাবসের এপিআই ব্যবহারের পাশাপাশি কৃষি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সমাধান উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে তিনটি প্রধান ক্যাটাগরির আওতায় মোট পাঁচটি পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে এপিআইভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন তৈরির জন্য দুটি এবং কৃষির চলমান সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য তিনটি পুরস্কার নির্ধারিত রয়েছে। সর্বোচ্চ কার্যকর ওয়েব অ্যাপ, এপিআইয়ের যথাযথ ব্যবহার এবং কৃষি খাতে অবদান রাখতে পারে এমন অ্যাপ্লিকেশন নির্মাণই ছিল মূল মূল্যায়ন সূচক। প্রতিযোগিতা শেষে সব অংশগ্রহণকারীকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. মো. রাকিব হাসান উল্লেখ করেন যে, জেমিনি, চ্যাটজিপিটি কিংবা ক্লডের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো কোডিং, ভিডিও নির্মাণ থেকে শুরু করে বিজ্ঞান ও অর্থনীতির নানা শাখায় কাজ সহজতর করছে। তবে এর ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক, কারণ এআই অনেক সময় ভুল তথ্য প্রদান করতে পারে। তাই অন্ধভাবে নির্ভর না করে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা উচিত। এছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে নিজের চিন্তা করার ক্ষমতা ও মৌলিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যেন হারিয়ে না যায়, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. সাইদ ইফতেখার ইউসুফ বলেন, আজকের এই আয়োজন থেকে তোমরা অনেক কিছু আত্মস্থ করতে পারবে। প্রশিক্ষণের প্রতিটি পর্ব গভীর মনোযোগের সাথে সম্পন্ন করে তা নিজেদের কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। তার প্রত্যাশা, এই হ্যাকাথনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা লাভ করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন ও সৃজনশীল কিছু উপহার দিতে সক্ষম হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে ক্লাসের সেরা ফলাফল অর্জন করা বা প্রথম হওয়াটাই মূল বিষয় নয়, বরং চাকরির বাজারের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে প্রস্তুত করাটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। যদিও শিক্ষকতা পেশায় ভালো ফলাফলের গুরুত্ব রয়েছে, তবে সাধারণ কর্মক্ষেত্রে ব্যবহারিক দক্ষতা এবং যোগ্যতাই মূল মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।