বাংলার আলো
শিরোনাম

জেনে নিন উত্তম-সুচিত্রা থেকে দেব-কোয়েল তারকাদের আসল নামগুলি কী

কিংবদন্তি থেকে আধুনিক যুগের অনেক তারকাই আসল পরিচয়ের বদলে ভিন্ন নামে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছেছেন এবং তাদের এই নাম বদলের পেছনে রয়েছে নানা অজানা গল্প।

Admin Admin 10 views
জেনে নিন উত্তম-সুচিত্রা থেকে দেব-কোয়েল তারকাদের আসল নামগুলি কী

উত্তম কুমার

বাংলা চলচ্চিত্রের এই মহানায়কের আকর্ষণীয় রূপ আর অসাধারণ অভিনয়প্রতিভা তাকে এ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল। অথচ ক’জনই বা জানেন তার আসল নাম? জন্মের পর পিতা-মাতা তার নাম রেখেছিলেন অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। পরিবারের স্নেহে কেউ কেউ তাকে উত্তম বলে ডাকতেন। চলচ্চিত্রে প্রবেশের শুরুর দিকে কখনো অরুণ চট্টোপাধ্যায় আবার কখনো উত্তম চ্যাটার্জি নামে পর্দায় আসতেন তিনি। পরিশেষে ১৯৫১ সালের ‘সহযাত্রী’ চলচ্চিত্রে প্রথমবার উত্তম কুমার নামটি ব্যবহার করেন এই অভিনেতা। কালজয়ী খ্যাতি ও অমরত্ব তিনি এই নামেই অর্জন করেছিলেন।

সুচিত্রা সেন

তিনি বাংলা সিনেমার মহানায়িকা সুচিত্রা সেন, যার শিকড় প্রোথিত বাংলাদেশে। অথচ মোহনীয় রূপ আর অসামান্য প্রতিভায় পুরো উপমহাদেশকে তিনি মুগ্ধ করেছিলেন। তবে এই নামটি তার জন্মগত নয়। সুচিত্রার আসল নাম রমা দাশগুপ্ত। বৈবাহিক সূত্রে স্বামীর পদবি ধারণ করে তার নাম দাঁড়ায় রমা সেন। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালের ‘সাত নম্বর কয়েদি’ চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো তার নাম সুচিত্রা সেন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরপর থেকে এই নামেই তিনি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান। কালের প্রবাহে রমা নামটি একসময় হারিয়েই যায়।

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলা চলচ্চিত্রের হাস্যরসের জগতে কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। বলা হয়ে থাকে, আজো কেউ তার মতো বিশুদ্ধ হাসির জোয়ার আনতে পারেননি। সেই জনপ্রিয় এই অভিনেতার আসল নাম ছিল সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আপনজনরা তাকে ভালোবেসে ভানু বলেই ডাকতেন। চলচ্চিত্রে পদার্পণের সময়ই তিনি ভানু নামটি গ্রহণ করেন এবং এই নামেই আকাশছোঁয়া খ্যাতি লাভ করেন।

মিঠুন চক্রবর্তী

১৯৫০ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণের পর তার পিতা-মাতা নাম রেখেছিলেন গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়। স্নেহবশে মা তাকে ‘গৌর’ বলে ডাকতেন। পরবর্তী সময়ে বড় হয়ে অভিনয়ে আসার পর তিনি ‘মিঠুন’ নামটি বেছে নেন। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘মৃগয়া’-তেও তিনি মিঠুন চক্রবর্তী নামেই পর্দায় অবতীর্ণ হন। কালক্রমে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতার আসনে উন্নীত হন।

জিৎ

একবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে কলকাতার চলচ্চিত্রে অন্যতম সফল তারকা ছিলেন জিৎ। একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু সংক্ষিপ্ত ‘জিৎ’ নামে সুপরিচিত হলেও তার প্রকৃত নাম জিতেন্দ্র মদনানী, যা অনেকের কাছেই অপরিচিত। জিতেন্দ্র নাম থেকেই সংক্ষেপে তাকে জিৎ ডাকা হতো। পরবর্তীতে এই নামটিকেই নিজের পরিচিতি বানিয়ে চলচ্চিত্রে স্থায়ী আসন গড়ে তোলেন এই অভিনেতা.

দেব

জিতের উত্তরসূরি হিসেবে টলিউডের শীর্ষ তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন দেব। বর্তমান সময়ে টালিগঞ্জে জিতের তুলনায় দেবের প্রভাব ও আধিপত্য কিছুটা বেশি। মজার বিষয় হলো, দেবের আসল নামও সম্পূর্ণ আলাদা। তার জন্ম নাম দীপক অধিকারী। বাল্যকালে সবাই তাকে দীপক নামেই সম্বোধন করত। পরবর্তীতে রূপালি পর্দায় পা রেখে তিনি ‘দেব’ নামটি গ্রহণ করেন। ২০০৬ সালের ‘অগ্নিশপথ’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথমবার দেব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

যিশু সেনগুপ্ত

জিৎ ও দেবের সমসাময়িকা অভিনেতা যিশু। জনপ্রিয়তার বিচারে কিছুটা পেছনে থাকলেও অভিনয় দক্ষতায় তিনি বেশ এগিয়ে। তার প্রকৃত নামও ভিন্ন। তার মাতা-পিতা নাম রেখেছিলেন বিশ্বরূপ সেনগুপ্ত। তবে অভিনয়ে নাম লেখানোর পর তিনি বিশ্বরূপ থেকে পরিবর্তিত হয়ে যিশু নামটি গ্রহণ করেন। বর্তমানে এই নামেই সারা ভারতে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

কোয়েল মল্লিক

বিশিষ্ট অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা কোয়েল মল্লিক। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলচ্চিত্রে পা রেখে তিনিও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে কোয়েলের আসল নাম রুক্মিণী মল্লিক। ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নাটের গুরু’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি কোয়েল নামেই পরিচিতি লাভ করেন। অবশ্য বর্তমান সময়ে রুক্মিণী মৈত্র নামে আরও এক অভিনেত্রী টালিগঞ্জে সুপ্রতিষ্ঠিত।