বাংলার আলো
শিরোনাম

কুড়ির কোঠা পেরোলেই যে আর্থিক বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া জরুরি

এই বয়সে প্রথম বেতন, বাড়ি ভাড়া, ক্রেডিট কার্ড এবং বিনিয়োগের মতো বহু নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে টাকা-পয়সা সামলানো একইসঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর ঠেকে।

Admin Admin 11 views
কুড়ির কোঠা পেরোলেই যে আর্থিক বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া জরুরি

আসলে সম্পদ গড়ে তোলার অর্থ প্রথম দিন থেকেই মোটা অঙ্কের বেতন পাওয়া নয়। বরং এর মানে হলো এমন কিছু অভ্যস্ততা গড়ে তোলা যা দীর্ঘ সময় ধরে নীরবে আপনার উপকারে আসবে। যত দ্রুত এই অভ্যাসগুলো আপনি রপ্ত করবেন, জীবনের আগামী দিনগুলো ততটাই সহজ হয়ে উঠবে। এখানে এমন কিছু অর্থনৈতিক অভ্যাসের কথা আলোচনা করা হলো যা কুড়ির কোঠাতেই আপনার আয়ত্ত করা উচিত—

অন্য সবাইকে টাকা দেওয়ার আগে নিজেকে টাকা দিন

বেশিরভাগ মানুষই মাসের শেষে যা বেঁচে থাকে তা জমিয়ে রাখেন। সমস্যা হলো, শেষ পর্যন্ত সাধারণত খুব সামান্যই হাতে থাকে। এর পরিবর্তে, বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জমানোর কাজটিকে অগ্রাধিকার দিন। আপনার আয়ের মাত্র ১০ বা ২০ শতাংশ হলেও কোনো খরচ করার আগে তা আলাদা কোনো অ্যাকাউন্ট বা বিনিয়োগে সরিয়ে রাখুন। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা দিয়েই জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠুন। সঞ্চয়কে আপনার ভবিষ্যতের একটি মাসিক বিল হিসেবে গণ্য করুন।

জানুন আপনার টাকা আসলে কোথায় যায়

জটিল স্প্রেডশিট বা বাজেট তৈরির অ্যাপ যদি আপনার অপছন্দের হয়, তবে তা ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে এ বিষয়ে আপনার সচেতন থাকা একান্ত জরুরি। এক মাসের জন্য আপনার প্রতিটি খরচ লিখে রাখুন—কফি, ফুড ডেলিভারি, সাবস্ক্রিপশন, কেনাকাটা থেকে শুরু করে ক্যাব ভাড়াও। বেশিরভাগ মানুষই অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন যে তারা এমন সব খাতে অজান্তেই প্রচুর অর্থ খরচ করে ফেলেন, যা তাদের কেনার কথা মনেই থাকে না।

জীবনযাপনের ব্যয়বৃদ্ধি এড়ান

বেতন বাড়ার অনুভূতিটি দারুণ। ভালো জিনিস কেনাও বেশ আনন্দের। কিন্তু মানুষ যে বড় আর্থিক ভুলগুলো করে থাকে, তার মধ্যে অন্যতম হলো আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া। এর চেয়ে সঠিক পন্থা হলো আয়ের পাশাপাশি সঞ্চয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি করা। আপনার সাফল্য আপনি উপভোগ করুন, তবে প্রতিটি বেতন বৃদ্ধিকে যেন আরও বেশি খরুচে অভ্যাসের পেছনে উড়িয়ে দেবেন না।

বিলাসবহুল জিনিসের পেছনে ছোটার আগে একটি জরুরি তহবিল তৈরি করুন

পছন্দের ছুটি কাটানো, দামি ফোন কেনা কিংবা ডিজাইনার ব্যাগ সংগ্রহের শখ কিছুদিন স্থগিত রাখা যেতেই পারে। তবে একটি জরুরি তহবিল আপনাকে যেকোনো নতুন শৌখিন কেনাকাটার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান নিরাপত্তা দেবে। এটি আপনাকে দেবে মানসিক প্রশান্তি। যখন আপনার আলাদা করে কিছু অর্থ সঞ্চিত থাকে, তখন অপ্রত্যাশিত চিকিৎসার বিল, চাকরি বদলানো কিংবা কোনো পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতি আপনাকে সহজে চাপে ফেলতে পারবে না। অন্তত কয়েক মাসের জীবনযাত্রার খরচের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে একটি তহবিল গঠনের লক্ষ্য রাখুন এবং তা যেন সহজেই উত্তোলন করা যায়, এমন জায়গায় রাখুন।

পরিমাণ কম মনে হলেও বিনিয়োগ শুরু করুন

অনেকেই বিনিয়োগ করতে দেরি করেন এই ভেবে যে তাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই। কিন্তু আদতে তা প্রয়োজন হয় না। কুড়ির দশকে বয়সীদের সবচেয়ে বড় শক্তি বেশি আয় নয়, বরং সময়। অল্প পরিমাণের মাসিক বিনিয়োগও বছরের পর বছর ধরে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে পারে। তাই বড় পরিসরে শুরু করার চেয়ে আগেভাগে শুরু করাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

চাহিদা এবং প্রয়োজনের মধ্যে পার্থক্য জানুন

যেকোনো কেনাকাটায় ভুল সিদ্ধান্ত নয়। মূল কৌশলটি হলো আপনি কেন কোনো জিনিস কিনছেন তা অনুধাবন করা। আপনি কি কোনো পুরোনো প্রয়োজনীয় জিনিস বদলাচ্ছেন, নাকি নিছক একঘেয়েমি কাটাতে কেনাকাটা করছেন? আপনি কি সত্যিই এটি নিজের ইচ্ছায় চাইছেন, নাকি সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার কাছে এটি আছে দেখেই কিনতে চাচ্ছেন? অপ্রয়োজনীয় বস্তু কেনার আগে মাত্র এক মুহূর্ত থামলেই কঠোর বাজেট তৈরির চেয়েও বেশি অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।

আয়ের একটি উৎসের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করবেন না

বেতন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি চিরকাল আপনার আয়ের একমাত্র মাধ্যম হয়ে থাকবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কুড়ির কোঠায় থাকা অনেকেই বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং, শিক্ষকতা, কনটেন্ট তৈরি, কনসালটেন্সি বা ডিজিটাল পণ্য বিক্রির মতো কাজ করে থাকেন। একটি অতিরিক্ত আয়ের উৎস আপনাকে দ্রুত সঞ্চয় করতে, বেশি বিনিয়োগ করতে কিংবা আর্থিক চাপ কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। এজন্য রাতারাতি কোনো ব্যবসা শুরু করতে হবে না, কেবল এমন কিছু দক্ষতা অর্জন করুন যা আপনার মূল কাজের পাশাপাশি আয় বাড়াতে সহায়তা করবে।

ঋণ নেওয়ার আগে বুঝুন

সব ঋণই খারাপ নয়, তবে প্রতিটি ঋণ নেওয়ার আগে গভীরভাবে ভেবে দেখা উচিত। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার বা কোনো ঋণ নেওয়ার পূর্বে পরিশোধের শর্তাবলি এবং কিস্তি সময়মতো শোধ করতে না পারলে তা আপনার আর্থিক অবস্থার ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা ভালোভাবে জেনে নিন। কোনো জিনিস কেনার কয়েক মাস পরেও যখন তার অর্থ পরিশোধ করতে হয়, তখন সেই কেনার আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। তাই জেনেশুনেই বুদ্ধিমানের মতো ঋণ নিন, হেলাফেলা করে নয়।

অস্বস্তি বোধ না করে টাকা-পয়সা নিয়ে কথা বলুন

অনেকেই বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সম্পর্ক, কেরিয়ার বা ঘোরাঘুরি নিয়ে খোলামেলা কথা বললেও টাকা-পয়সা বা অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে চলেন। অথচ বেতন, বিনিয়োগ, কর এবং আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে স্বাস্থ্যকর আলোচনা আপনাকে এমন কিছু শিক্ষা দিতে পারে যা কোনো শ্রেণিকক্ষ শেখাতে পারে না। আপনার আর্থিক জীবনের প্রতিটি গোপনীয়তা সবাইকে জানাতে হবে না, তবে অন্যদের থেকে শেখার মানসিকতা রাখলে আপনি আর্থিকভাবে আরও অনেক বেশি বিচক্ষণ হয়ে উঠতে পারবেন।